‘Economic Time’ অনুসারে বর্তমানে ভারতে ব্যাথানাশক ঔষধের বাজার প্রায় ১৬০০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে এবং এটি ক্রমশ বেড়ে চলেছে। একটি সার্ভেতে দেখা গেছে যে ভারতে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত মানুষ কোনো না কোনো ধরনের দীর্ঘস্থায়ী শারীরিক যন্ত্রণায় ভোগেন, যার মধ্যে নারী ও বয়স্কদের সংখ্যা সব থেকে বেশী। বর্তমানে ভারতে শারীরিক ব্যথা-বেদনা একটি প্রধান জনস্বাস্থ্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভারতে মোট জনসংখ্যার ২০ থেকে ৩৭ শতাংশেরও বেশি প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি দীর্ঘস্থায়ী ব্যথায় ভুগে চলেছেন।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) হিসাবে সারা বিশ্বে ক্রনিক পেইন বা দীর্ঘস্থায়ী ব্যাথার রুগীর সংখ্যা প্রায় ১.৫ বিলিয়ান, কেবল লোয়ার ব্যাক পেইন রুগীর সংখ্যাই প্রায় ৬০ কোটিরও বেশী এবং ২০৫০ সাল আসতে আসতে এর সংখ্যা দাঁড়াবে ১০০ কোটিরও উপরে। এছাড়া, আনুমানিক ১.৭১ বিলিয়ন মানুষ পেশী, হাড় এবং জয়েন্টের সমস্যা নিয়ে জীবনযাপন করে চলেছেন।
এমন পরিস্থিতিতে কাইরপ্র্যাক্টিক চিকিৎসা পদ্ধতি সারা বিশ্বে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা প্রণালী হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ, ব্যাথা কমাতে মানুষ যতই ওষুধের আশ্রয় নিচ্ছে ততই মানুষের জীবন আরও বিপন্ন হয়ে উঠছে। এই সমস্ত ব্যাথা নাশক ওষুধ এক দুই বার নিলে তেমন ক্ষতি কিছু হয় না কিন্তু লাগাতার নিতে থাকলে লিভার, কিডনি, হার্ট, লাংসে ব্যাপক ক্ষতি হতে শুরু করে। এর দীর্ঘমেয়াদী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হল – কিডনি রোগ, নিউরোপ্যাথি, লিভার সিরোসিস, ঘুমের ব্যাঘাত, হাড়ের ঘনত্ব হাস, দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্য, ওজন হ্রাস বা বৃদ্ধি, মেজাজ পরিবর্তন, প্রজনন সমস্যা, ত্বকের সংক্রমণ, কিছু নির্দিষ্ট ক্যানসারের ঝুঁকি ইত্যাদি। এর তালিকা আরও বিরাট।পেইন কিলার কিছুটা নেশার মতো কাজ করে, এর প্রতি নির্ভরশীলতা আরও বাড়তে থাকে। একবার নেশাগ্রস্থ হয়ে পরলে একে ছাড়ানো দুঃসাধ্য ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়।
আধুনিক কাইরোপ্র্যাকটিকের সূচনা হয় উনিশ শতকের শেষের দিকে, যখন ডঃ ড্যানিয়েল ডেভিড পামার একজন রোগীর উপর প্রথম স্পাইনাল ম্যানিপুলেশন প্রয়োগ করেন। যার ফলে কোন রকম ওষুধ ছাড়াই রুগী হাড় পেশীর তীব্রে ব্যাথা থেকে মুক্তি পেতে শুরু করে। তিনি মাত্র ২০’টি কাইরো টেকনিক ব্যাবহার করে শতাধিক রুগীর তীব্র ব্যাথা বেদনা কমিয়ে আনেন।
বর্তমানে, কাইরোপ্র্যাকটিক সারা বিশ্বে চিকিৎসা বিজ্ঞানের তৃতীয় বৃহত্তম শাখা হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং এটি পরিপূরক ও বিকল্প চিকিৎসা বিজ্ঞানের বৃহত্তম পেশার রুপ নিয়েছে।
'কাইরোপ্র্যাকটিক' শব্দটি গ্রিক শব্দ থেকে এসেছে যার অর্থ "হাতের দ্বারা চিকিৎসা"। এটি মূলত স্নায়ু-পেশী সংক্রান্ত রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার উপর আলোকপাত করে। এখানে মেরুদণ্ডের ম্যানুয়াল অ্যাডজাস্টমেন্ট বা ম্যানিপুলেশনের মাধ্যমে চিকিৎসার উপর জোর দেওয়া হয়। কাইরোপ্র্যাক্টিক চিকিৎসকের লক্ষ্য হলো কোন রকম ওষুধ ছাড়াই রোগীদের ব্যথা কমানো এবং তাদের কার্যক্ষমতা উন্নত করা।